Wednesday, October 30, 2019

বাংলাদেশের চলমান রাজনীতি ও দুর্নীতি: সন্ত্রাসের জনপদ জিম্মি জনগণ?


এলোমেলো করে দে মা লুটেপুটে খাই’বাংলাদেশের রাজনীতি- তোষননীতি ও চাটুকারিতার উপর নির্ভরশীল!

 রাজনীতি ও জনজীবন সুস্থ ও স্বাভাবিক নয়, রুগ্ণ, বিকারগ্রস্ত, দুর্বল।
সাধারন মানুষ দেশের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে খুবই হতাশ! তারা কোন রাজনীতিবিদ বা জনপ্রতিনিধিকে বিশ্বাস করেনা! নিজের বা সমাজের কোন বিষয় নিয়ে জন প্রতিনিধির উপর নির্ভর করা যায় এমন মন মানষিকতা সাধারণ মানুষের মধ্যে আমরা দেখিনা! জনগন ক্ষমতাবান লোকদের চরিত্রহীন,লম্পট,দূর্নীতিবাজ,জনগনের অর্থ লোপাটকারী হিসেবেই ভাবে ! তারা একথাও ভাবে যে কোন লোক ব্যক্তিগত স্বার্থ,উচ্চাভিলাষ এবং পদ পদবীর লোভ ছাড়া কেবল জন কল্যানের মন মানষিকতা নিয়ে রাজনীতিতে আসে না !এদেশে এমপিরা খুন করে,আত্মরক্ষার্থে নাকি শিশুদের গুলি করে,মাদক চোরাকারবারীর সঙ্গে জড়িত থাকে! রাত বিরাতে রং মহলে যায়-জোর করে ২ নম্বর বা ৩ নম্বর বউ হিসেবে কারো কন্যা বা স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে আসে ! অবৈধ উপার্জনের টাকা দিয়ে নেশা করে এবং জুয়া খেলে দেশও জাতির সর্বনাশ ঘটায়!সমাজের কুৎসিত চেহারার এবং কুৎসিত আকৃতির লোকেরা নেতা হয় অথচ দুনিয়ার সব জায়গায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেহারা সুরুত আকার আকৃতি শিক্ষা দীক্ষা বংশমর্যাদা এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা দেশের সাধারন মানুষের গড় পড়তা অবস্থানের চেয়ে উচু মানের হয়! জন্মগত, পরিবেশগত এবং প্রাতিষ্টানিক ভাবেই নেতৃবৃন্দ সাধারন মানুষের চেয়ে বহুগুনে শ্রেষ্ট হন!ফলে জনগনের শ্রদ্ধা ভালোবাসা এবং আস্থা লাভ করতে তাদের কোন কষ্টই হয় না! কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায় তার উল্টো!ইউনিয়ন পরিষদের একজন মেম্বার থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত একজন লোকও খুজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ যার আশে পাশের লোকজন,সহকর্মী ,সুবিধাভোগী এবং অধীনস্ত অধঃস্তনরা গর্ব করে বলবে" আমাদের নেতা সব দিক থেকেই আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর!বরং জনগন নেতাদেরকে পাগলা কুত্তা বা ষাঁড়ের মতো ভীষন ভয়ঙ্কর প্রাণী মনে করে তাদের থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করে তাদের দেখলেই জনগন ভাবে এই বুঝি আমাকে কামরাতে বা গুতো মারতে এলো !
দেশে এখন খুন, দুর্নীতি লুটপাট ও ঘুষের মহা উৎসব চলছে............
এলোমেলো করে দে মা, লুটেপুটে খাই। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। লুটপাট চলছে, লুটপাট চলবে......................., দেশজুড়ে এখন লুটের রাজত্ব চলছে। তৈরি হয়েছে লুটেরাদের ত্রিভুজ/চর্তুভূজ শোষন।সরকার, সাবেক বিরোধী দল,সরকারী আমলা, সরকারী চাকুরীজিবী- সর্বত্র লুটপাট চলছে ব্যাংকে টাকা নেই। দিশে হারা সরকার প্রধান-মহাসড়ক থেকে টোল আদায়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।
জানা গেছে, আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন খাগড়াছড়ি ৬ এর ঘর মেরামত কাজে মাত্র দুই বান টিনের দাম দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। এছাড়াও কাজ শুরুর মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই বাজেটের ৭১ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়। অথচ মেরামত কমিটির সদস্য সচিবের দেয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থেকে জানা যায়, চার মাসে মাত্র ১৫ ভাগ কাজ হয়েছে।
মেসার্স তাপস এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মিশু এন্টারপ্রাইজ ছিল এসব সংস্কারসহ অন্য দুটি কাজের দায়িত্বে। মিশু এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মোহাম্মদ জসিম। অন্যদিকে তাপস এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটিও চলে তার কর্তৃত্বেই।
পর্দার দাম ৩৭ লাখ, অক্সিজেন জেনারেটরের দাম ৫ কোটি ২৭ লাখ
আলোচিত রূপপুর বালিশকাণ্ডকে হার মানিয়ে এবার বিস্ময়কর দুর্নীতির নতুন নজির গড়েছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফেমিক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের জন্য কোরিয়া থেকে কেনা হয়েছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা দামের পর্দা। এত দাম দিয়ে পর্দা কেনা হলেও ব্যবহার নেই বছরের পর বছর। একইভাবে অভাবনীয় দাম দেখিয়ে কেনা বেশিরভাগ যন্ত্রই ফেলে রাখা হয়েছে। সরকারি ফ্ল্যাটে বালিশের মূল্য দেখে চোখ কপালে দেশবাসীর।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবিরের নিজ কার্যালয়ে এক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি এখন আন্তর্জাতিক একাধিক পর্ন সাইটে চলে গেছে।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মিনিট পাঁচেকের হলেও পর্ন সাইটে পুরো ২৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিও আপ হয়েছে। অর্থাৎ ফেসবুক বা ম্যাসেঞ্জারে কাটছাট করে ছাড়া হয়েছিল ভিডিওটি। ।ভিডিও ধারণকারীর বিচার চাইলেন অপকর্মে লিপ্ত সেই নারী.................. ।
স্ত্রীর জন্য রিফাত পালাননি, মিন্নি দিতে পারেননি কবরে মাটি ! অপরাধী ডা. আকাশ? নাকি ডাক্তার মিতু? বাংলাদেশের আইনে পরকীয়া এবং অবৈধ সম্পর্কের নারীদের শাস্তি কি?
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প কি অপরাধ জগতে পরিণত হয়েছে? গড়ে কেবল এক লাখ টাকা খরচ করলেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট মিলছে রোহিঙ্গাদের৷ তাদের সহায়তা করছে বাংলাদেশেরই দালাল চক্র৷
ছাত্রলীগ নামক বিষবৃক্ষের অপকর্ম আমাদের মাথা নিচু করে দিয়েছে -ওবায়দুল কাদের
১০ বছরে আমেরিকাকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী-এখনই তো পেছনে ফেলে দিসে, ৭ হাজার টাকায় বালিশ, ১ লাখ টাকায় টিন, ৩৭ লাখ টাকায় পর্দা!
“অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে (বাংলাদেশে) আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই—প্রীতি নেই—করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব'লে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।


একটির পর একটি দুর্নীতির রেকর্ড হচ্ছে। আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করব। সাড়ে ৫ হাজার টাকা দামের একটি বই স্বাস্থ্য অধিদফতর কিনেছে ৮৫,৫০০ টাকায়! আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ঘর মেরামতের জন্য একটি টিন কেনা হয়েছে এক লাখ টাকায়। যা বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় ১০০ গুণেরও বেশি। খাগড়াছড়ির ৬-আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কিছু ঘর মেরামতের কাজে এমন দামে টিন কেনা হয়েছে।

Thursday, October 17, 2019

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন” নারীর জন্য পুরষ নির্যাতনের হাতিয়ার

নারী-শিশু নির্যাতন আইনে করা ৮০ ভাগ মামলাই মিথ্যা

নারী এবং শিশুদের নির্যাতন থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণীত হলেও বর্তমানে এটি প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বামীকে বাগে রাখা, দেন মোহর আদায়, পরকীয়া প্রকাশ পাওয়ায় পর সংসার টিকিয়ে রাখতে, শশুর-শাশুড়িকে শায়েস্তা করা, প্রেম করে পালিয়ে যাওয়া মেয়েকে উদ্ধার কিংবা তুচ্ছ কোনো কারণে প্রায়ই প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য মামলা করা হয় এই আইনে। অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলা করেও পার পেয়ে যায় বাদী। কোনো সাজা তাকে পেতে হয়না। দেশের নির্যাতিত নারী ও শিশুদের রক্ষা ও অপরাধীদের শাস্তি দিতে প্রথমে ১৯৮৩ সালে নারী নির্যাতন অধ্যাদেশ (৬০ নং) জারি করা হয়। এরপর এই আইনের আরো কঠোর প্রয়োগের জন্য ১৯৯৫ সালে পূর্ববর্তী আইনটি বাতিল করে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ১৯৯৫’ প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তিতে ১৯৯৫ সালের আইনের দুর্বলতা, অস্পষ্টতা ও বিভিন্ন ক্রটি-বিচ্যুতি দূর করে সময়োপযোগী করে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০’ প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে এটি একটি কঠোর আইন। এ আইনে দাহ্য পদার্থ দিয়ে কৃত অপরাধ, নারী পাচার, শিশু পাচার, নারী ও শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা, যৌন নির্যাতন, যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ভিক্ষাবৃত্তি ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুর অঙ্গহানিজনিত অপরাধের বিচার ও শাস্তির কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়াও অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করার কথাও বলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার করার কথা বলা হয়েছে এ আইনে। তবে মিথ্যা মামলা করা বা অভিযোগ দায়েরকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও বলা আছে এই আইনে। ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০’ প্রণয়নের উদ্দেশ্য ছিল এ আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধের জন্য বিচার প্রার্থীদের প্রতিকার প্রদান করা এবং অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ভূক্তভোগীদের রক্ষা করা। কিন্তু বাস্তব অবস্থা পুরোপুরি হতাশাজনক। ঢাকার পাঁচটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে যে চিত্র পাওয়া গেছে তা হলো, এ আইনের অধীনে দায়ের করা অধিকাংশ মামলাই চূড়ান্তভাবে শেষ হয়না। তাই অনেকে এসব মামলার অধিকাংশকেই মিথ্যা বলে অভিহিত করেন। অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীতে বনিবনা না হওয়ার কারণে অথবা পরকীয়া প্রেমের কারণে অথবা যৌক্তিক অন্য কোনো কারণে স্বামীর দেওয়া তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর স্ত্রী তালাকের পূর্বের একটি তারিখে মিথ্যা ও কাল্পনিক ঘটনার বর্ণনায় মামলা করে থাকে। মূলত বাদী পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের উপর মনের ঝাল মিটানোর উদ্দেশ্যে নারী নির্যাতনের মামলা করেন। এর মাধ্যমে তাড়াতাড়ি দেনমোহরের টাকা আদায় করা যায়। এ বিষয়ে ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার এর বাস্তবতা স্বীকার করে বলেন, তিনি দেড় বছর ধরে পাবলিক প্রসিকউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ৩ হাজারের মতো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এ সময়ে। সর্বোচ্চ ৭/৮ টি মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে আসামিদের। বাকি সব মামলায়ই আসামিদের খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। দেড় বছরের পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে শতকরা ৮০ ভাগ মামলাই মিথ্যা। এ ব্যাপারে ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আব্দুল বারি বলেন, ‘শতকরা ৯০ ভাগ মামলাই ভুয়া।’ তিনি বলেন, একস্থানের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য অন্যস্থানে গিয়ে মামলা করা হয়। যেমন বাদির বাড়ি কুমিল্লায়। মামলা করলে তাকে কুমিল্লায় করতে হবে। কিন্তু প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করার জন্য বাদীকে ঢাকায় কোনো আত্মীয়স্বজনের ঠিকানায় রেখে বা বাদীর ঢাকাস্থ কোনো ঠিকানা দেখিয়ে এই আইনের অধীনে মামলা করা হয়। তিনি আরো বলেন, মাত্র ১৫০০-২০০০ টাকায় মেডিকেল সার্টিফিকেট সরবরাহ করার দালাল রয়েছে আদালত এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ওইসব সার্টিফিকেট দিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করা হয়েছে উল্লেখ করে মামলা করা হয়। একই বিষয়ে ২ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি মো. আলী আকবরও বলেন প্রায় একই কথা । তিনি বলেন, ‘পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে এবং বিরোধের একেবারে শেষের দিকে ১১ (গ) ধারায় (যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা বা মারাত্মক জখম বা সাধারণ জখম) মামলা হয়। এ জাতীয় শতকরা ৯৯ ভাগ মামলায় কোনো সাজা হয়না।’ অনেকে মনে করেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০’ একটি কঠিন আইন। ফলে এ মামলায় সহজেই প্রতিপক্ষকে হেনস্থা করা যায়। তার মতে এ আইনে মিথ্যা মামলা করা বা অভিযোগ দায়েরকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ মামলার অপপ্রয়োগ। https://www.facebook.com/groups/1527752050803466
তালাক
========================
স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে অথবা পবিত্রা থাকলে এবং
ঐ পবিত্রতায় কোন
সঙ্গম না করে থাকলে এক তালাক দেবে।[1]
আর এর ব্যাপারে দুই ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে।[2]
অতঃপর স্বামী স্ত্রীকে ঘর থেকে যেতে
বলবে না এবং স্ত্রীও স্বামী-
গৃহ ত্যাগ করবে না। বরং গর্ভকাল বা তিন মাসিক পর্যন্ত
অপেক্ষা
করবে। এই ইদ্দতের মাঝে স্ত্রী ভরণ-
পোষণও পাবে। মহান আল্লাহ
বলেন,
﴿ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺇِﺫَﺍ ﻃَﻠَّﻘْﺘُﻢُ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀَ ﻓَﻄَﻠِّﻘُﻮﻫُﻦَّ ﻟِﻌِﺪَّﺗِﻬِﻦَّ
ﻭَﺃَﺣْﺼُﻮﺍ
ﺍﻟْﻌِﺪَّﺓَ ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﺭَﺑَّﻜُﻢْ ﻻ ﺗُﺨْﺮِﺟُﻮﻫُﻦَّ ﻣِﻦْ ﺑُﻴُﻮﺗِﻬِﻦَّ ﻭَﻻ
ﻳَﺨْﺮُﺟْﻦَ ﺇِﻻَّ
ﺃَﻥْ ﻳَﺄْﺗِﻴﻦَ ﺑِﻔَﺎﺣِﺸَﺔٍ ﻣُﺒَﻴِّﻨَﺔٍ ﻭَﺗِﻠْﻚَ ﺣُﺪُﻭﺩُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﺘَﻌَﺪَّ
ﺣُﺪُﻭﺩَ ﺍﻟﻠﻪِ
ﻓَﻘَﺪْ ﻇَﻠَﻢَ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ﻻ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﻟَﻌَﻞَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻳُﺤْﺪِﺙُ ﺑَﻌْﺪَ ﺫَﻟِﻚَ ﺃَﻣْﺮﺍً ﴾
‘‘হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের
স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে ইচ্ছা কর
তখন ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দিও,
ইদ্দতের হিসাব রেখো
এবং তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো।
তোমরা ওদেরকে সবগৃহ হতে
বের করো না এবং ওরাও যেন সে ঘর হতে বের
না হয়; যদি না ওরা
লিপ্ত হয় স্পষ্ট অশ্লীলতায়। এ হল আল্লাহর বিধান,
যে আল্লাহর
বিধান লঙ্ঘন করে, সে নিজেরই উপর অত্যাচার
করে। তুমি জান না,
হয়তো আল্লাহ এরপর কোন উপায় বের করে
দেবেন।’[3]
অতঃপর ভুল বুঝে স্বামীর মন ও মতের পরিবর্তন
ঘটলে যদি স্ত্রী
ত্যাগ করতে না চায়, তাহলে ইদ্দতের ভিতরেই (তিন
মাসিকের পূর্বে
পূর্বেই) তাকে ফিরিয়ে নিতে পারে। তবে
ফিরিয়ে নেবার সময়ও দুই
ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে।
উল্লেখ্য যে, স্ত্রী প্রত্যানীতা করার সময় তার
সম্মতি জরুরী নয়।
[4]
কিন্তু মন বা মতের পরির্বতন না হলে ও স্ত্রীকে
তার জীবন থেকে
আরো দূর করতে চাইলে দ্বিতীয় পবিত্রতায়
দ্বিতীয় তালাক দেবে এবং
অনুরূপ সাক্ষী রাখবে। এরপরও স্ত্রী স্বামীগৃহ
ত্যাগ করবে না এবং
স্বামীও তাকে বের করতে পারবে না। পরন্তু
তাকে উত্যক্ত করে সংকটে
ফেলাও বৈধ নয়।[5]
এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর উচিৎ, নানা অঙ্গসজ্জা ও
বিভিন্ন প্রেম-ভঙ্গিমা
প্রদর্শন করে স্বামীর মনকে নিজের দিকে
আকর্ষণ করার চেষ্টা করা।
এখনও যদি মত পরিবর্তন হয়, তাহলে স্বামী তাকে
ফিরিয়ে নিতে
পারে। নচেৎ একেবারে চিরতরে বিদায় করতে
চাইলে তৃতীয় পবিত্রতায়
তৃতীয় তালাক দিয়ে বিবাহ চিরতরে বিচ্ছেদ করবে
এবং যথানিয়মে
সাক্ষী রাখবে। এরপর স্ত্রী স্বামীগৃহ ত্যাগ
করবে, আর তার জন্য
কোন ভরণ-পোষণ নেই।[6]
তৃতীয় তালাকের পর স্বামী চাইলেও স্ত্রীকে
আর ফিরিয়ে আনতে পারে
না। নতুন মোহর ও বিবাহ আকদেও নয়। হ্যাঁ, তবে
যদি ঐ স্ত্রী
সেবচ্ছায় দ্বিতীয় বিবাহ করে, স্বামী-সঙ্গম
করে এবং সে স্বামী
সেবচ্ছায় তালাক দেয় অথবা মারা যায়, তবে ইদ্দতের
পর পুনরায় প্রথম
স্বামী নব-বিবাহ-বন্ধনে ঐ স্ত্রীকে ফিরিয়ে
আনতে পারে। এর পূর্বে
নয়।[7]
এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে যদি কেউ ঐ
নারীকে তার স্বামীর জন্য
হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ ক’রে ২/১ রাত্রি সহবাস
ক’রে তালাক
দেয়, তবুও পূর্ব স্বামীর জন্য সে বৈধ হবে না।
কারণ, এ কাজ
পরিকল্পিতভাবেই করা হয় এবং স্ত্রীও অনেক
ক্ষেত্রে এ কাজে রাজী
থাকে না। পরন্তু হাদীস শরীফে এই হালালকারী
দ্বিতীয় স্বামীকে ‘ধার
করা ষাঁড় ও অভিশপ্ত বলা হয়েছে।’[8]
পক্ষান্তরে এক অথবা দুই তালাক দেওয়ার পর
ফিরিয়ে না নিলে এবং তার
বাকী ইদ্দত তালাক না দিয়ে অতিবাহিত হলে স্ত্রী
হারাম হয়ে যায়
ঠিকই; কিন্তু তারপরেও যদি স্বামী-স্ত্রী পুনরায়
সংসার করতে চায়,
তবে নতুন মোহর দিয়ে নতুনভাবে বিবাহ (আক্দ)
পড়ালে এই
পুনর্বিবাহে উভয়ে একত্রিত হতে পারে। আর এ
ক্ষেত্রে ঐ শাস্তি
নেই।
কিন্তু পূর্বে যে এক অথবা দুই তালাক সে ব্যবহার
করেছে, তা ঐ স্ত্রীর
পক্ষে সংখ্যায় গণ্য থাকবে। সুতরাং দুই তালাক
দেওয়ার পর ফিরিয়ে
নিয়ে থাকলে বা ইদ্দত পার হয়ে যাওয়ার পর পুনর্বিবাহ
করে থাকলে সে
আর একটিমাত্র তালাকের মালিক থাকবে। আর একটিবার
তালাক দিলে
স্ত্রী এমন হারাম হবে যে, সে দ্বিতীয় বিবাহের
স্বামী তাকে সেবচ্ছায়
তালাক না দিলে বা মারা না গেলে পূর্ব স্বামী আর
তাকে (বিবাহের
মাধ্যমে) ফিরে পাবে না।
অতএব সারা জীবনে একটি স্ত্রীর ক্ষেত্রে
স্বামী মাত্র ৩ বার
তালাকেরই মালিক হয়। ১০ বছর পর পর ৩ বার তালাক
দিলেও শেষ বারে
পূর্ব অবস্থা ছাড়া আর ফিরিয়ে নিতে বা পুনর্বিবাহ
করতে পারে না।
[9]
অবশ্য দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করার পর তালাক বা
মৃত্যুর কারণে
ইদ্দতের পর প্রথম স্বামী যখন নতুন মোহর সহ
পুনর্বিবাহ করে,
তখন আবার সে নতুন করেই তিন তালাকের মালিক
হয়।[10]
তালাকপ্রাপ্তা নারী যদি বিধিমত তার স্বামীকে
পুনর্বিবাহ করতে চায়
বা অন্য স্বামী গ্রহণ করতে চায়, তবে কোন
স্বার্থ, রাগ বা
বিদ্বেষবশতঃ তাকে এতে বাধা দেওয়া তার
অভিভাবকের জন্য বৈধ নয়।
মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻃَﻠَّﻘْﺘُﻢُ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀَ ﻓَﺒَﻠَﻐْﻦَ ﺃَﺟَﻠَﻬُﻦَّ ﻓَﻼَ ﺗَﻌْﻀُﻠُﻮﻫُﻦَّ ﺃَﻥْ
ﻳَﻨْﻜِﺤْﻦَ
ﺃَﺯْﻭَﺍﺟَﻬُﻦَّ ﺇِﺫَﺍ ﺗَﺮَﺍﺿَﻮْﺍ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑِ ﴾
‘‘আর তোমরা যখন স্ত্রী বর্জন কর এবং তারা
তাদের ইদ্দতকাল
অতিবাহিত করে তখন তাদেরকে তাদের স্বামী
গ্রহণ করতে বাধা দিও
না; যদি তারা আপোসে খুশীমত রাজী হয়ে
যায়।’’[11]
স্ত্রীর মাসিকাবস্থায় তালাক দিলে স্বামী গোনাহগার
হবে এবং সে
তালাক গণ্য হবে না। পবিত্রাবস্থায় তালাক দিলেই তবে
তা গণ্য হবে।
স্ত্রীর মাসিকের খবর না জেনে তালাক দিলে
গোনাহগার হবে না এবং
তালাকও নয়। পক্ষান্তরে জেনে-শুনে দিলেই
গোনাহগার হবে।[12]
অনুরূপ এক মজলিসে তিন তালাক হারাম। সুতরাং যদি কেউ
তার স্ত্রীকে
লক্ষ্য করে ‘তোমাকে তালাক, তালাক, তালাক, অথবা
‘তোমাকে তিন
তালাক’ বলে বা এর অধিক সংখ্যা উল্লেখ করে,
তবে তা কেবল এক
তালাকই গণ্য হবে। এইভাবে এক সঙ্গে তিন তালাক
দেওয়ার পর ভুল বুঝে
পুনরায় যথারীতি ইদ্দতে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে
চাইলে বা ইদ্দতের পর
যথানিয়মে পুনর্বিবাহ করতে কোন বাধা নেই।[13]
কিন্তু অনুরূপ তিনবার করে থাকলে পূর্বোক্ত
নিয়মানুযায়ী চাইলে পুনঃ
সংসার করতে পারে। নচেৎ না।
অনিয়মে তালাক দেওয়া আল্লাহর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন
করার
অন্তর্ভুক্ত।[14]
সুতরাং সময় ও সংখ্যা বুঝে তালাক দেওয়া তালাকদাতার
জন্য ফরয।
যদি স্বামী তার স্ত্রীকে বলে ‘যদি তুমি অমুক কাজ
কর বা অমুক
জায়গায় যাও, তাহলে তোমাকে তালাক’ এবং এই
বলাতে যদি সত্য সত্যই
তালাকের নিয়ত থাকে, তবে এমন লটকিয়ে রাখা
তালাক স্ত্রীর ঐ কাজ
করার সাথে সাথে গণ্য হয়ে যায়।
অবশ্য তালাকের নিয়ত না থেকে যদি স্ত্রীকে
ভয় দেখিয়ে কেবল ঐ
কাজে কঠোর নিষেধ করাই উদ্দেশ্য থাকে,
তাহলে তালাক গণ্য হবে না।
তবে স্ত্রীর ঐ কাজ করার পর স্বামীকে
কসমের কাফ্ফারা লাগবে।
[15]
অনুরূপ তালাকের উপর কসম খেলেও। যেমন যদি
কেউ তার ভাইকে বললে,
‘তুই যদি এই করিস, তাহলে আমার স্ত্রী তালাক’ বা
‘আমি যদি তোর
ঘর যাই, তাহলে আমার স্ত্রী তালাক’, তবে এ
ক্ষেত্রেও নিয়ত বিচার্য।
তালাকের প্রকৃত নিয়ত হলে তালাক হবে; নচেৎ না।
তবে কসমের
কাফ্ফারা অবশ্যই লাগবে। অনুরূপ তর্কের সময়ও যদি
কেউ বলে ‘এই
যদি না হয় তবে আমার স্ত্রী তালাক’ অথচ বাস্তব তার
প্রতিকূল হয়,
তাহলে ঐ একই বিধান প্রযোজ্য। তবে তালাক
নিয়ে এ ধরনের খেল
খেলা স্বামীর জন্য উচিৎ নয়।[16]
কেউ যদি স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে,
তবে এই জোরপূর্বক
অনিচ্ছাকৃত তালাক গণ্য নয়। অনুরূপ নেশাগ্রস্ত
মাতালের তালাক।[17]
চরম রেগে হিতাহিত জ্ঞানহীন ক্রুদ্ধ ব্যক্তির
তালাক।[18]
ভুল করে তালাক, অতিশয় ভীত-বিহ্বল ব্যক্তির তালাক
গণ্য নয়।[19]
মরণ-শয্যায় শায়িত স্বামী তার মীরাস থেকে
স্ত্রীকে বঞ্চিত করার
উদ্দেশ্যে তালাক দিচ্ছে বলে জানা গেলে তাও
ধর্তব্য নয়।
সুতরাং সে তার ওয়ারেস হবে এবং স্বামী-মৃত্যুর
ইদ্দত পালন করবে।
[20]
স্বামী তালাকের ব্যাপারে স্ত্রীকে এখতিয়ার
দিলে এবং স্ত্রী তালাক
পছন্দ করলে তালাক হয়ে যাবে।
বিবাহ ও তালাক নিয়ে কোন ঠাট্টা-মজাক নেই। মজাক
করেও স্ত্রীকে
তালাক দিলে তা বাস্তব।[21]
বিবাহ প্রস্তাবের পর কোন মনোমালিন্য হলে
স্বামী তার বাগদত্তা
স্ত্রীর উদ্দেশ্যে যদি তালাক বা হারাম বলে
উল্লেখ করে, তবে তা
ধর্তব্য নয়। অবশ্য বিবাহের পর তাকে কসমের
কাফ্ফারা লাগবে।[22]
তালাকের খবর স্ত্রী না পেলেও তালাক গণ্য
হবে।[23]
আল্লাহ, তাঁর রসূল বা দ্বীনকে স্বামী গালি দিলে
স্ত্রী তালাক হয়ে
যাবে। ফিরে নিতে চাইলে তওবা করে নতুন
মোহরে পুনর্বিবাহ করতে
হবে।[24]
চিঠির মাধ্যমে তালাক দিলে তা গণ্য হবে। অনুরূপ
বোবা যদি ইঙ্গিতে
তালাক দেয় তবে তাও গণ্য। অবশ্য লিখতে জানলে
তার ইঙ্গিত গণ্য
নয়।[25]
[1] (বুখারী, মুসলিম) [2] (সূরা আত্-ত্বলাক (৬৫) : ২,
সআবু দাঊদ
১৯১৫নং) [3] (আলকুরআন কারীম ৬৫/১) [4]
(মাজাল্লাতুল বহুসিল
ইসলামিয়্যাহ ৯/৬৬) [5] (সূরা আত-ত্বলাক্ব (৬৫) : ৬) [6]
(ফিকহুস
সুন্নাহ ২/১৬৭) [7] (সূরা আল-বাক্বারা (২ ) : ২৩০) [8]
(ইরঃ
৬/৩০৯, ইবনে মাজাহ ১৯৩৬নং, মিশকাতুল মাসাবীহ
৩২৯৬নং) [9]
(ফিকহুস সুন্নাহ ২/২৪৭) [10] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২৪৯)
[11] (সূরা
আল-বাক্বারাহ (২) : ২৩২) [12] (ফাতাওয়াল মারআহ
৬৩-৬৪ পৃঃ)
[13] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩/১৭১-১৭৩,
২৬/১৩৩,
তুহফাতুল আরূস, ১৪৮ ও ২২৮ পৃঃ) [14] (সূরা আল-বাক্বারা
(২) ; ২২৯,
৬৫/১) [15] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৫/৯৪) [16]
(কিতাবুদ
দাওয়াহ২/২৪২, ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৯১) [17]
(মাজাল্লাতুল
বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩২/২৫২) [18] (মাজাল্লাতুল বহুসিল
ইসলামিয়্যাহ ১৬/৩৪৭, ২৬/১৩৩) [19] (ফিকহুস সুন্নাহ
২/২২১)
[20] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২৪৯) [21] (ইরুওয়াউল গালীল
১৮২৬নং)
[22] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৫৮, আল-ফাতাওয়া
আল-
ইসলামিয়্যাহ ২/৭৮৭) [23] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন
২/৮০৪) [24]
(ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৮৩) [25] (ফিকহুস
সুন্নাহ
২/২২৯)
জামিন অযোগ্য মামলায় জামিন লাভে বিবেচ্য বিষয়
জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন প্রদান করা হচ্ছে আদালতের এখতিয়ার। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত স্বাধীন হলেও জুডিশিয়াল মাইন্ড তথা সূ² বিচার-বিবেচনার ওপর নিভর্র করতে হয়।
সাধারণত আমাদের দেশের আদালতগুলোয় জামিন অযোগ্য মামলায় অভিযুক্ত বা অপরাধীকে বেশকিছু বিষয় বিবেচনা করে জামিনের আদেশ দিয়ে থাকে। অভিযুক্ত বা আসামির বিরুদ্ধে, আনীত অভিযোগের গুরুত্ব কতটুকু বা যুক্তিসঙ্গত কিনা। এজাহার নামীয় নাকি সন্ধিগ্ন। স্থায়ী ঠিকানা ও পরিচিতি আছে কিনা। ১৬ বছরের কমবয়স্ক কিনা। স্ত্রীলোক কিনা। অসুস্থ বা অক্ষম কিনা তথা শিশু, বৃদ্ধ, নারী কিংবা হীনবল কিনা। ফৌজদারি কাযির্বধির ১৬৪ ধারায় নিজেকে জড়িয়ে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে কিনা। দুগ্ধপোষ্য শিশুসন্তান আছে কিনা। দাগি, দুধর্ষর্ বা অভ্যাসগত অপরাধী কিনা। দুনার্মবিহীন কিনা। ডাক্তারি সনদমতে আসামি রোগাক্রান্ত বা জখমপ্রাপ্ত কিনা। ছাত্র বা পরীক্ষাথীর্ কিনা। আসামি শনাক্তকরণ মহড়ায় সাক্ষী আসামিকে শনাক্ত করেছে কিনা। বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা বা পূবর্শত্রæতা আছে কিনা। আসামি দীঘির্দন হাজতে আছে কিংবা আসামি জেলহাজতে থাকায় তার পরিবারের লোকজন অথার্ভাবে বা অনাহারে আছে কিনা। আসামিকে জামিন দিলে মামলার তদন্তে কোনোরকম বিঘœ সৃষ্টি করবে কিনা বা মামলার আলামত- সাক্ষ্য নষ্ট বা মামলা পরিচালনায় অন্য কোনো সমস্যা করবে কিনা। আসামি জামিন পেলে পলাতক হবে কিনা। আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমপর্ণকারী বা পুলিশ কতৃর্ক গ্রেপ্তারকৃত কিনা। মামলার সহযোগী আসামি জামিনে আছে কিনা। মামলায় আপস-মীমাংসার সম্ভাবনা আছে কিনা। আসামি কোনো দায়িত্বশীল পদে বা চাকরিতে আছে কিনা। মামলার তদন্তে (১৮০ দিনেরও) বেশি দেরি হচ্ছে কিনা। বিচারে (৩৬০ দিনেরও বেশি) দেরি হচ্ছে কিনা। প্রথমবারের অপরাধ করেছে কিনা। অপরাধ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি বা কারাদÐ হতো তার চেয়ে বেশি সময় জেলহাজতে আছে কিনা। আসামির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কাযির্বধির ১৬১ ধারা মতে পুলিশি তদন্তে কেউ সাক্ষ্য দিয়েছে কিনা। আসামির কাছ থেকে কোনো অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে কিনা। জামিন পেলে আসামি সুবিধাজনক জায়গায় চলে যাবে কিনা। জামিন না পেলে আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে কিনা।
জামিন শুনানিতে পক্ষদ্বয়ের বিজ্ঞ কৌশলীর উত্থাপিত যুক্তিতকর্ও জামিনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূণর্। উল্লিখিত বিষয়গুলো বললেই যে জামিন পাওয়া যাবে বা আদালত জামিন দিতে বাধ্য তা কিন্তু নয়। জামিন-অযোগ্য মামলায় অভিযুক্ত বা আসামির জামিন আদালতের সন্তুষ্টির উপর নিভর্র করে।
কোথায় জামিন আবেদন করতে হয়?
জামিন পেতে হলে প্রথমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হতে হয়। সেখানে জামিন আবেদন করতে হয়। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন নামঞ্জুর করলে দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করতে হয়। সেখানেও জামিন নামঞ্জুর হলে সুপ্রিম কোটের্র হাইকোটর্ বিভাগে জামিন আবেদন করতে হয়। হাইকোটর্ বিভাগে জামিন নামঞ্জুর হলে সবের্শষ ভরসা আপিল বিভাগে জামিন চাইতে হবে। এর প্রতিটি ধাপের যে কোনো একটি আদালতে জামিনের আদেশ হলে অভিযুক্ত বা আসামি কারাগার থেকে বের হতে পারবেন। যদি না এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ বা বিরোধী পক্ষ আপিল করে। কোনো অফিসার বা আদালত কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিলে তার সেই আদেশের কারণ লিপিবদ্ধ করতে হয়।
আগাম জামিন
ফৌজদারি কাযির্বধির অধীনে আগাম জামিন বা গ্রেপ্তারের পূবর্বতীর্ জামিন নামে আরেক ধরনের জামিনের ব্যবস্থা আছে। যখন গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনায় বা গ্রেপ্তার হওয়ার অনুমানে কোনো ব্যক্তিকে জামিন প্রদান করা হয়, তখন তাকে আগাম জামিন বলে। জামিনের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে আগাম জামিন দেয়া হয়। যখন কোনো ব্যক্তির কাছে বিশ্বাস করার এমন কারণ থাকে যে, তিনি কোনো জামিন অযোগ্য অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন, তখন তিনি হাইকোটর্ বিভাগে বা দায়রা আদালতে নিদেের্শর জন্য আবেদন করলে আদালত যথাথর্ মনে করলে ওই ব্যক্তিকে আগাম জামিন প্রদান করতে পারেন।
আগাম জামিন অনুমোদন করার জন্য আইনের বিধানে কোনো নিদির্ষ্ট ধারা নেই। ফৌজদারি কাযির্বধির ৪৯৮ ধারাকে ব্যাখ্যা করে পরে আগাম জামিন দেয়া অব্যাহত রাখেন আদালত। তাই আগাম জামিনের জন্য ফৌজদারি কাযির্বধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী আবেদন করতে হয়। আগাম জামিন পেতে আবেদনকারীকে আদালতের সামনে প্রমাণ করতে হয় যে, তিনি আশু গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছেন। তাকে দেখাতে হয় যে, গ্রেপ্তারের ফলে তার সুনাম এবং স্বাধীনতায় অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তবে আসামি যেন দেশত্যাগ করতে না পারে এবং আদালতের নিদের্শমাত্র হাজির হতে পারে, আগাম জামিন মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে আদালত সেদিকে সতকর্ থাকে।
উল্লেখ্য, মামলায় জামিন পেলেও আদালত যে কোনো সময় জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তির জামিন বাতিলের আদেশ দিতে পারেন।
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলা
কারো স্ত্রী যদি আইনগত কোনো কারণ ছাড়াই তার স্বামীর সাথে একত্রে বসবাস না করে, সেক্ষেত্রে স্বামী দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে।
কিন্তু এর দু’টি ব্যতিক্রম আছে-
ক. বিয়েটি স্ত্রীর ইদ্দতকালে অনুষ্ঠিত হলে, দাম্পত্য মিলন ঘটে থাকলেও স্বামী দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো আদেশ বা ডিক্রি পাবে না।
খ. স্ত্রীর নাবালকত্বকালে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর যদি বৈধভাবে তার বিচ্ছেদ ঘটে থাকে তাহলে স্বামী তার বিরুদ্ধে কোন ডিক্রি পাবে না ।
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলায় বাদীকে অবশ্যই প্রমান করতে হবে যে, সে নির্দোষ ও নিরীহ মনোভাব নিয়েই আদালতের কাছে বিচার প্রার্থী হয়েছে। স্ত্রী যদি প্রমাণ করতে পারে যে, স্বামী তার সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করেছে, তবে স্বামী ডিক্রি পাবে না।
নিষ্ঠুরতার আকার প্রকৃতি এমন হতে হবে যে, ওই অবস্থায় স্ত্রীর পক্ষে স্বামীর ঘরে যাওয়া নিরাপদ নয় , তখন সেটা হবে একটি উত্তম বৈধ প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি ।
আশু দেনমোহর যতক্ষণ পর্যন্ত পরিশোধ করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রী তার স্বামীর সাথে বসবাস করতে ও তাকে দাম্পত্য মিলনের সুযোগ দিতে অস্বীকার করতে পারে।
দাম্পত্য মিলন হওয়ার আগে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে স্বামী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে সেই ক্ষেত্রে দেনমোহর অপরিশোধিত রয়েছে বললে আনীত মামলায় এটি একটি উত্তম প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি হবে এবং আনীত মামলাটি নাকচ করা হবে।
কিন্তু স্ত্রীর সম্মতিক্রমে দাম্পত্য মিলন হওয়ার পর মামলাটি দায়ের করা হলে ‘আশু দেনমোহর’ প্রদানমূলক শর্তমূলক দাম্পত্য অধিকারের পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত ডিক্রি দেওয়া যাবে।
তবে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বৈধ বিবাহের অস্বিত্ব থাকতে হবে।
বিয়ের আগে সম্পাদিত কোনো চুক্তিতে যদি বলা হয় যে বিয়ের পর স্ত্রী তার পিতা-মাতার সাথে বসবাস করতে পারবে, তাহলে এটি অবৈধ হবে এবং এ জাতীয় কোনো চুক্তি দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য আনীত মামলায় কোনো জবাব হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
একইভাবে বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে যদি উল্লেখ করা হয় যে এখন তারা একত্রে বসবাস করবে এবং যদি স্বামীর প্রস্তাবে একমত হতে না পারে তাহলে সেখানে চুক্তিটি স্ত্রী স্বামীকে ত্যাগ করতে পারবে, সেখানে চুক্তিটি অবৈধ হবে এবং স্বামী কর্তৃক আনীত দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলায় এটা উত্তম যুক্তি বলে গন্য হবে না।
তবে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে বসবাস করার অনুমতি দান করে তাকে ভরণপোষণ প্রদানে সম্মত হয়ে তার সাথে সম্পাদিত চুক্তি আইন দ্বারা কার্যকর হবে।
তবে স্ত্রী নিম্নোক্ত কারণে স্বামীর দাম্পত্য অধিকার পূণরুদ্ধার দাবী অস্বীকার করতঃ বিপরীত দাবী করতে পারে। যথাক্রমে-
ক. স্বামীর নিষ্ঠুরতা
খ. স্বামী হতে পৃথক থাকার ক্ষমতা দান
গ. আশু মোহরানা পরিশোধ না করা
ঘ. স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামী কর্তৃক মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন
ঙ. স্বামীকে সমাজচ্যূতকরণ;
চ. বিবাহের মিথ্যা দাবী সংক্রান্ত মামলা
ছ. ওয়াদা ভঙ্গের দাবী ও
জ. স্ত্রী অপহরণ
দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবির ক্ষেত্রে আইনবিদদের মধ্যে রয়েছে দ্বিমত। বিভিন্ন মামলার নজিরেও ভিন্নমত পাওয়া গেছে। এতে অভিযোগ উঠেছে, কেউ যদি স্বাধীনচেতা হন, পূর্ণাঙ্গভাবে আলাদা থাকতে চান এতে সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একতরফা দাবির কোনো সংঘাত হবে কি-না।
১৮ বিএলডি (১৯৯৮)-এ খোদেজা বেগম বনাম মোঃ সাদেক মামলার রায়ে বলা হয়, ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য একটি পারষ্পরিক অধিকার। সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদের সঙ্গে এটি বৈষম্যমূলক কিংবা অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
হোসেন জাহান বনাম মো: সাজাহান মামলায় (১৮ বিএলডি, ১৯৯৮) বলা হয়, ‘বিনা কারণে যদি কোনো স্ত্রী দাম্পত্য মিলনে অস্বীকার করেন তাহলে স্বামী মামলা করতে পারেন।’
আরেকটি মামলার (১৬ বিএলডি,১৯৯৬ পৃষ্টা ৩৯৬-৩৯৮) লিপিবদ্ধ বর্ণনায় নিম্ন আদালত থেকে স্বামীর পক্ষে ডিক্রি এবং আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে স্ত্রী রিভিশন মামলা করলে হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ (বিচারপতি গোলাম রব্বানী ও বজলুর রহমান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত) এ ডিক্রি বাতিল করেন এবং দাম্পত্য অধিকার মোকদ্দমা ডিসমিস করেন।
ওই রায়ে সৈয়দ আমির আলীর মোহামেডান “ল” গ্রন্থ থেকে বিয়ের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করা হয় এবং বলা হয়-
‘কোনো দেওয়ানি বা ধর্মীয় আইনের চোখে ইসলামী আইন অধিক কঠোর, যা একজন মহিলাকে তাঁর বিবাহিত জীবনের অত্যাচার থেকে রক্ষা করে। ইসলামি আইনে এ অত্যাচার স্বামী কর্তৃক কেবল দৈহিক বা মানসিক অত্যাচার বোঝায় না, স্বামীর সঙ্গে বসবাসে স্ত্রীর অনিচ্ছুকতাও বোঝায়।’
দাম্পত্য পুনরুদ্ধার মোকদ্দমার ক্ষেত্রে স্বামীরা এ প্রতিকার বেশি চাইলেও ৯০ শতাংশ ডিক্রিই স্ত্রীর পক্ষে যায়। আর এ ধরনের প্রতিকার স্বামী বা স্ত্রীকে দাম্পত্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ডিক্রি কোনো পক্ষ পেলেও সাধারণত ডিক্রি কার্যকর হয় না। এ ডিক্রি প্রাপ্তির ফলে কেবল স্বামী বা স্ত্রীর ওপর দাম্পত্য অধিকারটি স্থাপিত করা যায়, যাতে অপর পক্ষ দ্বিতীয় বিয়ে কিংবা বিনা কারণে তালাক না চান।
তবে তাঁকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপরে জোর করা যায় না। এতে সংবিধানে লিপিবদ্ধ মৌলিক অধিকার লংঘিত হয়। তবে কেউ যদি তালাক চান, তাহলে আলাদাভাবে তা কার্যকর করতে হবে। আর স্বামী-স্ত্রীর ঘর-সংসার করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যদি শ্বশুরবাড়ির লোকজন এতে বাঁধা দেয়, তাহলে ফৌজদারী আদালতের আশ্রয় নেওয়া যায়।

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র মুখবন্ধ যেহেতু মানব পরিবারের সকল সদস্যের সমান ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারসমূহ এবং সহজাত মর্যাদার স্বীকৃতি‌ই হচ...