Saturday, December 7, 2019


কবর/মাজার জিয়ারত প্রসঙ্গে!!!
আল্লাহর রাসুল সা: আলী রা: কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সকল উচু কবর ধ্বংস করার জন্য আমাদেরও এখন একই কাজ সকল উচু কবর, মাজার নামের ব্যবসা ধ্বংস করে দেওয়া, মাটির সাথে সমান আফসোসের বিষয় সেই আলী রা: এর কবরই এখন মাজারে পরিনত করছে

মাজার শব্দের অর্থ হলো দর্শনীয় স্থান যেটা দেখলে মন ভাল হয় যেমন সমুদ্র সৈকত একটা মাজার বা দর্শনীয় স্থান

সহীহ হাদিসগুলোতে আছে, কবর পাকা করা নিষেধ, কবরে বাতি দেওয়া নিষেধ, কবরের উপর ঘর নির্মাণ নিষেধ, কবরকে উৎসরেব স্থান বানানো নিষেধ, কবরে গিলাফ লাগানো নিষেধ কিন্তু আমাদের মুসলমান অনেকেই সবগুলো নিষেধ করা কাজই বেশী করে করে
বলতে পারে সেগুলো পীরদের মাজার কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পীরগুলার অস্তিত্ব কেন সাহাবাদের যুগে নাই, কেন তাবেয়ীদের যুগে নাই কারণ এটা একটা ব্যবসা যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে

আল্লাহ কোরআনে বলেছেন..........
সূরা ফাতির-২২> হে নবী, তুমি কবরে শায়িতদের কথা শুনাতে সক্ষম না
আর আমাদের কবরগুলোতে এমনই আক্বিদাহ পোষন করে যে কবর বাসী শুনে
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
"সাবধান ! তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী নেককার লোকদের কবর সমূহ মসজিদ (সিজদার স্থান) হিসেবে গন্য করতো। তবে তোমরা কিন্তু কবর সমূহকে সিজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদের নিষেধ করে যাচ্ছি" [মুসলিম, ১০৭৭]
"তাঁর নিকট রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ, এবং এক তিনি ছাড়া সম্পর্কে কারও জ্ঞান নেই।
(সূরা আল আনআম, : ৫৯)
"আজকে (কিয়ামতের দিন) তোমাদের কেউ কাউকে উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারবে না। আর আমি অপরাধীদেরকে বলব-জাহান্নামের আগুনের স্বাদ গ্রহণ কর দুনিয়ায় যাকে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছ। (সুরা সাবা: ৪২)
 "সেটি এমন দিন যেদিন কোন নিকটতম প্রিয়জনও কোন নিকটতম প্রিয়জনের কাজে আসবে না। আর তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না। (সুরা দুখান:৪১)
প্রত্যেককে তার নিজ নিজ কর্মের ব্যাপারে জবাবদিহি নিজ থেকেই দিতে হবে
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
তোমরা যদি না জেনে থাক তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর।”(সুরা নাহল:৪৩)

"সেদিন এমন একটি দিন যখন কারও জন্য কোন কিছু করার সাধ্য থাকবে না। ফায়সালার ভার সেদিন একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতেই থাকবে। (সুরা ইনফিতার:১৯)


আল্লাহ কোরআনে বলেছেন
সূরা আহকাফ-> হে নবী, বল, আমি জানি না আমার সাথে আল্লাহ কি ব্যবহার করবেন এবং আমি জানি না আল্লাহ তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করবেন

বুঝার চেষ্টা করুন, নবী নিজেই যেখানে জানেন না তার সাথে কি ব্যবহার হবে, সেখানে আমাদের দেশের ৯০% মানুষ মনে করে আব্দুল কাদের জিলানী, শাহ জালাল, শাহ পরান (রা) জান্নাতি তারা জান্নাতের সার্টিফিকেটই দিয়া দেয়

অনেকে তাদের মুখে জান্নাতি না বললেও মনে মনে সেটা বিশ্বাস করে আর ঈমান হলো সেটাই যা অন্তরে বিশ্বাস করা হয়, মুখে স্বীকার করা হয় এবং কার্য দ্বারা সম্পাদন করা হয়
হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ(সাঃ) তার নিজের ব্যাপারেই বলেন, আমার কবরকে তোমরা উৎসবের স্থান বানিও না -সুনানে আবু দাউদ: /২৭৯
আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত বা কুরবানী করা যায়না। কারণ মান্নত কুরবানী হচ্ছে ইবাদত। আর ইবাদত আল্লাহ ছাড়া কারা জন্য করা জায়েজ নয়। অথচ আমরা পীরের নামে ,মৃত বেইক্তির নামে মান্নত করি  :
আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন আমার মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই। তাঁর কোন অংশিদার নেই। আমি তা- করতে আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম আনুগত্যশীল।
(সূরা আনআম-১৬২-১৬৩)

নিশ্চয়ই আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি তোমারই নিকট সাহায্য চাই।” (সুরা ফাতিহাঃ )
 যদি কোন কিছু চাও, তবে আল্লাহর নিকট চাও। যদি সাহায্য চাও তবে একমাত্র তার নিকটই চাও।” (তিরমিযি)

কবরপুজারী, মাজারপুজারীরা মুখে অস্বীকার করলেও তাদের অন্তর এই স্বাক্ষ্যই দেয় যে তারা জান্নাতি
আল্লাহ আমাদের কবর পুজা, মাজার পুজা ইত্যাদি থেকে বাচার এবং কবর পুজা মাজার পুজা ধ্বংস করার তৌফিক দান করুন আল্লাহ এই পীর পুজারী, কবর পুজারীদের হেদায়েত দান করুন

No comments:

Post a Comment

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র মুখবন্ধ যেহেতু মানব পরিবারের সকল সদস্যের সমান ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারসমূহ এবং সহজাত মর্যাদার স্বীকৃতি‌ই হচ...